সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬ , ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা: নাদের, পলিন, রিপন-দীপঙ্করসহ ৪৮ জন আসামি পূবালী ব্যাংকের ইলেক্ট্রনিক বুথ ও সেল্ফ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন গনবিজ্ঞপ্তি--সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন পৈতৃক সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধন ও স্বত্ব ফেরতের দাবি হাওরে স্কুলযাত্রায় জীবনের ঝুঁকি, নিরাপদ নৌযান এখনো অধরা ১৬১৩ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক মইয়ার হাওরে নৌকাডুবিতে নিহত ২, নিখোঁজ ২, ভবানীপুরে শোকের মাতম জামালগঞ্জে হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি বালুর নিচে হাজার বিঘা কৃষিজমি, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা হবিগঞ্জে সারজিস ও নাসীরুদ্দীনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা সরকার নৈতিক দিক থেকে দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে : জামায়াত আমির একটি মহল সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করছে : মির্জা ফখরুল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিভক্তির চিত্র, ৬ ও ৮ আগস্ট পৃথক সমাবেশের ডাক উড়াল সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, স্মারকলিপি, ধর্ষকের ফাঁসির দাবি ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪ দাবি মেনে নতুন টোল নির্ধারণ, নদীপথে স্বাভাবিক হচ্ছে পণ্য পরিবহন সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ স্থগিত তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় ভারত : দীনেশ ত্রিবেদী চার্জশিট থেকে মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বজ্রপাত মোকাবেলায় দায়সারা প্রকল্প : মানুষের জীবনের মূল্য কি এতই কম?

  • আপলোড সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ০৮:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ০৮:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন
বজ্রপাত মোকাবেলায় দায়সারা প্রকল্প : মানুষের জীবনের মূল্য কি এতই কম?
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বজ্রপাত যেন এক নীরব ঘাতক। প্রতি বছর বোরো মৌসুম এলেই কৃষক-জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল পৃথক বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু সেই আতঙ্ককে আবারও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। অথচ প্রশ্ন হলো- এত মৃত্যুর পরও কেন কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে না? সরকার বজ্রপাতকে ২০১৬ সালে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে - এটি নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ঘোষণার পর বাস্তবায়নের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা হতাশাজনকই নয়, বরং উদ্বেগজনক। কোটি টাকার প্রকল্পে বজ্র নিরোধক দ- স্থাপন ও তালগাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে এর সুফল মানুষ পাচ্ছে না - এমন অভিযোগ এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং ব্যাপক। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে। যেখানে হাওরের খোলা মাঠে কৃষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, সেখানে বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন না করে জনবহুল হাটবাজার বা তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে এগুলো বসানো হয়েছে - এটি কেবল অব্যবস্থাপনা নয়, এটি দায়িত্বহীনতার স্পষ্ট উদাহরণ। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় বাস্তবতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা কিংবা বিশেষজ্ঞ মতামত - এসব কি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল? আরও উদ্বেগজনক হলো, স্থাপিত দন্ড-গুলো আদৌ কার্যকর কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছেই কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। কোনো যন্ত্র বসিয়ে তা অচল পড়ে থাকলে সেটি কেবল অর্থের অপচয় নয়, মানুষের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণাও। জনগণের করের টাকায় নির্মিত প্রকল্পের এমন দায়সারা ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তালগাছ রোপণ প্রকল্পের অবস্থাও প্রায় একই। হাজার হাজার গাছ লাগানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। রোপণের পর পরিচর্যার অভাব, নজরদারির ঘাটতি এবং জবাবদিহিতার অভাবে প্রকল্পটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। প্রশ্ন হলো- কেবল প্রকল্প নেওয়াই কি লক্ষ্য, নাকি তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে? এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখনই কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, বজ্রঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে বৈজ্ঞানিকভাবে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্থাপিত যন্ত্রগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকারিতা যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, তালগাছ বা অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও তদারকি জরুরি। চতুর্থত, স্থানীয় জনগণ, বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এবং সর্বোপরি, প্রতিটি প্রকল্পে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে - কারণ ব্যর্থ প্রকল্পের দায় কারো না কারো নিতে হবে। বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ - এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সেই দায়িত্ব রাষ্ট্র এড়িয়ে যেতে পারে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, মানুষের জীবন কোনো পরিসংখ্যান নয়, কোনো প্রকল্পের সংখ্যা নয়। প্রতিটি মৃত্যু একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, একটি সমাজকে ক্ষতবিক্ষত করে। তাই সময় এসেছে দায়সারা প্রকল্পের বাইরে এসে বাস্তবভিত্তিক, কার্যকর এবং মানবিক উদ্যোগ গ্রহণের। অন্যথায়, বজ্রপাতের চেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠবে আমাদের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
‎সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা: নাদের, পলিন, রিপন-দীপঙ্করসহ ৪৮ জন আসামি

‎সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা: নাদের, পলিন, রিপন-দীপঙ্করসহ ৪৮ জন আসামি